ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
1win – Bono de bienvenida y promociones para casino y apuestas 1win পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বললেন ‘অ্যাকশনে’ যেতে, বাহিনীর সদস্যরা নির্বিকার চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সৌরশক্তিচালিত সেচ ব্যবস্থায় বদলাচ্ছে কৃষি ব্যবস্থা জাপানের সঙ্গে কর্মসংস্থান চুক্তি, কর্মী নিয়োগ শুরু ১লা এপ্রিল থেকে আগামী ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে “এম্প্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে উনিশেই ইউরো ও বিশ্বজয়, ফুটবলের নতুন যুগের মুখ ইয়ামাল জুলাই আন্দোলনের মিথ্যা মামলা ও হয়রানিতে ব্যবস্থা: ডিবিপ্রধান

১৮৬ বার রেকর্ড সৃষ্টি করলেন কুমিল্লার জাবেদ নাসিম

অনলাইন রিপোর্ট॥ বর্তমান কালে এই পৃথিবীতে ব্যবসায়িক মন-মানসিকতার মানুষের সংখ্যাই পৃথিবীতে অনেক বেশি। স্বার্থের বাহিরে গিয়ে কেউ কিছুই করতে চায় না। কিন্তু ব্যতিক্রম একজন মানুষ কুমিল্লার জাবেদ নাসিম।রক্ত দানেই তাঁর আনন্দ, দিয়েছেন ১৮৬ বার ‘স্বদেশের উপকারে নেই যার মন, কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন’ কিংবা ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’- এই পঙ্‌ক্তিগুলো হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছেন জাবেদ নাসিম। রোগীর পাশে দাঁড়ানো তিনি কর্তব্য বলে মনে করেন। এ জন্য নিয়ম মেনে রক্ত দিতে তার দ্বিধা নেই। বরং অনেক বছর থেকেই হাসিমুখে কাজটি করছেন তিনি। এর বাইরেও সমাজকর্মী হিসেবে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
জাবেদ নাসিম প্রসঙ্গে পরিচিতজনেরা বলেন তিনিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশিবার রক্ত দেওয়া সমাজকর্মী। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি রক্তদান করছেন। এ পর্যন্ত ১৮৬ বার রক্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে ১২৬ বার ফুল ব্যাগ এবং ৫৭ বার শিশুদের রক্ত দিয়েছেন। তিনবার প্লাটিলেট দিয়েছেন। শিশুদের রক্ত দিলে বড়দের দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছেন তিন মাস, অন্যদিকে বড়দের রক্ত দেওয়ার পরও এ নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেছেন তিনি।
জাবেদ নাসিম ১৯৬৮ সালের ২৭ অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। জুরাইনে কেটেছে বাল্যকাল। ঢাকার নারিন্দা সরকারি হাই স্কুল থেকে এসএসসির পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি চাকরিজীবী, পাশাপাশি সামলাচ্ছেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা।
জাবেদ নাসিম যখন যুবক তখনও দেশে মুঠোফোন আসেনি। ফেইসবুক তো ভাবাই যায় না। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি দেখতে পেতেন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। সেই বিজ্ঞাপন নাড়া দিতো তার  নরম হৃদয়ে। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হন তিনি। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত দেওয়ার পর যে হাসি তার ঠোঁটে দেখতে পান, সেই হাসিই তার অনুপ্রেরণা। সেই প্রশান্তি বুকে নিয়ে তিনি কাজ করছেন।
রক্ত দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছুটে গিয়েছেন জাবেদ নাসিম। রক্ত দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হন গাইবান্ধা গিয়ে। এক শিশুকে রক্ত দেওয়ার জন্য সেখানে হাজির ছিলেন ১৪ জন রক্তদাতা। ১৪ জনের মধ্যে থেকে সেই শিশু নাসিমকে বেছে নেন। রক্ত দেওয়ার পর সেই শিশু তাকে শুভেচ্ছাও জানায়। দিনটি ছিল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই স্মৃতি তার জীবনের অন্যতম ভালোবাসার স্মৃতি বলে রাইজিংবিডিকে জানান নাসিম।
দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে নাসিম রক্তদাতা সম্মাননা পেয়েছেন। দেশের রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোতে তিনি ‘দাদুভাই’ নামে পরিচিত। এ ছাড়াও ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ কুমিল্লা জেলা থেকে পেয়েছেন আইজিপি সম্মাননা।
জাবেদ নাসিম মরণোত্তর চক্ষুদান করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে একটি আশ্রম পরিচালনা করেন। আশ্রমে ঠাঁই হয় পরিত্যক্ত নবজাতকদের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেইসব নবজাতকদের বুকে তুলে নেন তিনি। ঠাঁই দেন নিজ হাতে গড়া আশ্রমে। এই আশ্রমের কোনো নাম দেননি তিনি, আশ্রমে নানা বয়সী প্রায় ৫০টি সন্তান রয়েছে, যাদের বাবা-মা নেই।
জাবেদ নাসিম বলেন, আমি মানুষকে রক্ত দিয়ে আনন্দ পাই। যেখানে যখন রক্তের প্রয়োজন হয় আমি ছুটে যাই। সারাজীবন আমি রক্ত দিয়ে যেতে চাই, আল্লাহ যতদিন ভালো রাখবেন।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

1win – Bono de bienvenida y promociones para casino y apuestas 1win

১৮৬ বার রেকর্ড সৃষ্টি করলেন কুমিল্লার জাবেদ নাসিম

প্রকাশিত : ০৫:০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২
অনলাইন রিপোর্ট॥ বর্তমান কালে এই পৃথিবীতে ব্যবসায়িক মন-মানসিকতার মানুষের সংখ্যাই পৃথিবীতে অনেক বেশি। স্বার্থের বাহিরে গিয়ে কেউ কিছুই করতে চায় না। কিন্তু ব্যতিক্রম একজন মানুষ কুমিল্লার জাবেদ নাসিম।রক্ত দানেই তাঁর আনন্দ, দিয়েছেন ১৮৬ বার ‘স্বদেশের উপকারে নেই যার মন, কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন’ কিংবা ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’- এই পঙ্‌ক্তিগুলো হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছেন জাবেদ নাসিম। রোগীর পাশে দাঁড়ানো তিনি কর্তব্য বলে মনে করেন। এ জন্য নিয়ম মেনে রক্ত দিতে তার দ্বিধা নেই। বরং অনেক বছর থেকেই হাসিমুখে কাজটি করছেন তিনি। এর বাইরেও সমাজকর্মী হিসেবে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
জাবেদ নাসিম প্রসঙ্গে পরিচিতজনেরা বলেন তিনিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশিবার রক্ত দেওয়া সমাজকর্মী। ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি রক্তদান করছেন। এ পর্যন্ত ১৮৬ বার রক্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে ১২৬ বার ফুল ব্যাগ এবং ৫৭ বার শিশুদের রক্ত দিয়েছেন। তিনবার প্লাটিলেট দিয়েছেন। শিশুদের রক্ত দিলে বড়দের দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছেন তিন মাস, অন্যদিকে বড়দের রক্ত দেওয়ার পরও এ নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেছেন তিনি।
জাবেদ নাসিম ১৯৬৮ সালের ২৭ অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। জুরাইনে কেটেছে বাল্যকাল। ঢাকার নারিন্দা সরকারি হাই স্কুল থেকে এসএসসির পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি চাকরিজীবী, পাশাপাশি সামলাচ্ছেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা।
জাবেদ নাসিম যখন যুবক তখনও দেশে মুঠোফোন আসেনি। ফেইসবুক তো ভাবাই যায় না। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি দেখতে পেতেন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। সেই বিজ্ঞাপন নাড়া দিতো তার  নরম হৃদয়ে। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হন তিনি। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত দেওয়ার পর যে হাসি তার ঠোঁটে দেখতে পান, সেই হাসিই তার অনুপ্রেরণা। সেই প্রশান্তি বুকে নিয়ে তিনি কাজ করছেন।
রক্ত দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছুটে গিয়েছেন জাবেদ নাসিম। রক্ত দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হন গাইবান্ধা গিয়ে। এক শিশুকে রক্ত দেওয়ার জন্য সেখানে হাজির ছিলেন ১৪ জন রক্তদাতা। ১৪ জনের মধ্যে থেকে সেই শিশু নাসিমকে বেছে নেন। রক্ত দেওয়ার পর সেই শিশু তাকে শুভেচ্ছাও জানায়। দিনটি ছিল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই স্মৃতি তার জীবনের অন্যতম ভালোবাসার স্মৃতি বলে রাইজিংবিডিকে জানান নাসিম।
দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে নাসিম রক্তদাতা সম্মাননা পেয়েছেন। দেশের রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোতে তিনি ‘দাদুভাই’ নামে পরিচিত। এ ছাড়াও ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ কুমিল্লা জেলা থেকে পেয়েছেন আইজিপি সম্মাননা।
জাবেদ নাসিম মরণোত্তর চক্ষুদান করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে একটি আশ্রম পরিচালনা করেন। আশ্রমে ঠাঁই হয় পরিত্যক্ত নবজাতকদের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেইসব নবজাতকদের বুকে তুলে নেন তিনি। ঠাঁই দেন নিজ হাতে গড়া আশ্রমে। এই আশ্রমের কোনো নাম দেননি তিনি, আশ্রমে নানা বয়সী প্রায় ৫০টি সন্তান রয়েছে, যাদের বাবা-মা নেই।
জাবেদ নাসিম বলেন, আমি মানুষকে রক্ত দিয়ে আনন্দ পাই। যেখানে যখন রক্তের প্রয়োজন হয় আমি ছুটে যাই। সারাজীবন আমি রক্ত দিয়ে যেতে চাই, আল্লাহ যতদিন ভালো রাখবেন।